মেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ত্বকের যত্ন টিপস

গায়ের রং সাদা হোক কিংবা কালে, আপনাকে অবশ্যই কিছু ত্বকের যত্ন টিপস অনুসরণ করতে হবে। অনেকে মনে করে, ত্বক কালো হলেই কেবল সাদা করার জন্য যত্ন নিতে হবে। মোটেও বিষয়টি এমন নয়।

ত্বকের যত্ন অবশ্যই নিতে হবে। কেননা, সারা দিনের রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে পরিবেশের সকল রোগ জীবানুর ধকল নিতে হয় এই ত্বককে। সুতরাং, ত্বকের যত্ন না দিলে ত্বকে দেখা দিতে পারে অনেক ধরণের রোগ। চুলকানি থেকে শুরু করে ত্বকের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ১০টি বাংলাদেশের সেরা ক্যান্সার হাসপাতাল নিয়ে লেখা আছে প্রয়োজনে দেখতে পারেন।

যাই হোক, আজকের এই লেখায় আমরা মেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব ত্বকের যত্ন টিপস নিয়ে আলোচনা করবো। কেননা, অনেকেই চিন্তিত ত্বকের যত্ন কিভাবে নেব এ নিয়ে। লেখার ক্ষেত্রে কিছু ইংরেজি শব্দ আসতে পারে। এই শব্দগুলো নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমরা প্রতিটি বিষয়ের সহজ ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছি।

ত্বকের যত্ন টিপস

এক নজরে সম্পূর্ণ লেখা  দেখুন 

১. প্রতিদিনের স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলুন

আপনার ত্বকের ধরণ যেমন হউক না কেন, আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখতে চাইলে, প্রতিদিন স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলতে হবে। এই রুটিন মেনে চলার ফলে আপনার ত্বকের সমস্যা যেমন: একনে, ডার্ক স্পট ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। ত্বকের যত্ন টিপস হিসাবে এটাই প্রথমে আসে।

একটি প্রতিদিন স্কিন কেয়ার রুটিনে মূলত চারটি ধাপ রয়েছে যা আপনি রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিংবা সকালে ঘুমানোর আগে মেনে চলতে হবে

ক্লিনজিং

একটি ক্লিনজার নির্বাচন করুন, যা আপনার ত্বক ধোয়ার পরে যাতে টান টান না রাখে। আপনার যদি ড্রাই স্কিন হয়ে থাকে তাহলে, আপনি মেকআপ করা এড়িয়ে চলুন। বার বার স্কিন ধোয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, তা আপনার ত্বকের ন্যাচারাল অয়েল রিমুভ করে দিতে পারে।

ক্লিনজার মূলত সব ধরণের স্কিনের ধরণ অনুযায়ী সিলেক্ট করে নিতে হবে আপনাকে। জনপ্রিয় ক্লিনজারের মধ্যে অন্যতম হল:

  • Chetaphil
  • Banila Clean It Zero
  • Sherbet Clearnser

সিরাম

ভিটামিন সি গুণসম্পন্ন সিরাম আপনার ত্বককে সকালে, সূর্যের আলোতে, ভালো রাখে। রাতের বেলা রেটিনল এবং প্রেসক্রিপশন রেটিনল সিরাম ভালো কাজ করে থাকে। সাধারণ মেকআপ আর্টিস্টগণ  ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, রেটিনল ব্যবহার করে থাকে। 

মশ্চোরাইজার

অয়েলিং স্কিনের মশ্চোরাইজার বেশ প্রয়োজন। কিন্তু সেক্ষেত্রে লাইট-ওয়েট, জেল-বেসিক মশ্চোরাইজার ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে আপনার মুখের পোর্টস যাবে না। কিন্তু, ড্রাই স্কিনের ক্ষেত্রে ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

যেমন: MISSHA Super Aqua Cell Renew Snail Cream। বেশির ভাগ সময়ে ব্র্যান্ডসমূহ তাদের কোম্পানি প্রোডাক্ট কোন ধরণের জেল কিংবা ক্রিম দিয়ে বাজারে নিয়ে আসে। 

সানস্ক্রিন

বাইরের যাবার প্রায় ১৫ মিনিট পূর্বে এসপিএফ ৩০ সানস্ক্রিনসমূহ ব্যবহার করতে হবে। গরমে ত্বকের যত্ন হিসাবে সানস্ক্রিনের বিকল্প নেই। স্কিনটোনের মানুষদের আরো বেশি পরিমাণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। কারণ হাইপারপিগমেন্টেশান কর্কট হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার।

সেই জন্য ব্যবহার করতে পারেন Elta MD sunscreen যা সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মি ত্বকে আঘাত আনার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। এই বেগুনি রশ্মি স্কিন ক্যান্সার হওয়ার জন্য বিরাট ভূমিকা পালন করে। 

সেনসিটিভ ত্বকের যত্ন হিসাবে সেনসিটিভ স্কিনের ধরণের উপর নির্বাচন করে, পণ্য নির্বাচন করুন। রেটিনাল কিংবা প্রেসক্রাইব রেটিনলের মতো পণ্যসমূহ আপনি রাতে ব্যবহার করুন। রাতে ত্বকের যত্ন নিতেকোন নাইট ক্রিম সবচেয়ে ভালো? এই লেখাটিও পড়তে পারেন।

উক্ত প্রোডাক্টের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ধারণ করে পণ্য নির্বাচন করুন। যখন দেখবেন এই পণ্যসমূহ আপনার স্কিনের জন্য ভালো, তখন আপনি এই পণ্যসমূহ ব্যবহার করতে পারেন। 

কোন ধরে নতুন পণ্যসমূহ কিনে সেই পণ্যসমূহ ত্বকের উপর এপ্লাই করার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়সমূহ একটু মাথায় রাখুন:

  • অল্প পরিমাণ পণ্য আপনার ত্বকের উপর ব্যবহার করুন। 
  • ৪৮ ঘণ্টা তা পর্যালোচনা করুন। 
  • যদি তা ৯৬ ভাগ আপনার ত্বকের উপর কাজ করে থাকে তাহলে, আপনার আপনার ত্বক পণ্য ব্যবহারের উপযোগী হবে।

২. ত্বকের যত্ন টিপস হিসাবে নিচের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন

ত্বকের যত্ন টিপস
ত্বকের যত্ন টিপস

ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারে সর্তকতা: অনেকেই স্কিনের বিভিন্ন ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে, লেবুর রস এবং টুথপেস্ট ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়াও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইম্মা ওয়াটসন দাবি করেন যে, তার স্কিন কেয়ারের মূল উপাদান হল সোডা। কিন্তু উপকার হলেও সত্য এই যে, এই সকল উপাদান কোন এক সময় আপনার স্কিনের খুব মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

না বুঝে পণ্য ব্যবহার না করা: কিছু পণ্যসমূহের মূল্য তুলনামূলক কম থাকায়, মানুষ বেশি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু প্রথমে কোন ধরণের এফেক্ট দেখা না দিলেও বেশ কিছুদিন পর এর থেকে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই আপনার ত্বকের জন্য কোন পণ্য সমূহ গুরুত্বপূর্ণ তা নির্বাচন করার চেষ্টা করুন। কোন ধরনের পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই কোন ডাক্তার কিংবা ডার্মাটোলজিস্ট এর শরণাপন্ন হতে হবেই। 

কিভাবে ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?

শুধুমাত্র ত্বকের যত্ন টিপস অনুসরণ করে আপনার স্কিনের সমস্যাসমূহ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এখন ব্ল্যাক হেড, ডার্ক সার্কেল সহ আরও নানান ধরনের সমস্যা সমূহ হাইপারপিগমেন্টেশন নামে পরিচিত। একটি সমস্যায় বাকি সমস্যাসমূহ সৃষ্টি করতে পারে। যা ধীরে ধীরে ত্বকের ক্যান্সার সহ আরও নানা ধরনের রোগের উৎপত্তি করে থাকে। 

তাই, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সাথে উক্ত সমস্যা সমাধানে কিছু ত্বকের যত্ন টিপস তুলে ধরছি আপনার সামনে:

একনে (Acne)

মেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ত্বকের যত্ন টিপস
একনে রোগের লক্ষন

একনের সমস্যা তখনি সমাধান করা যায়, যখন আপনার স্কিনের একনর প্রভাব বুঝা যায়। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আপনার ত্বকের যত্ন টিপস অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু সামান্য একনের ক্ষেত্রে আপনি নন প্রেসক্রাইব প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন। যা বিভিন্ন ধরনের ড্রাগস দোকান থেকে যেমন:

  • Salicylic Acid
  • Benzoyl Peroxide 
  • Alpha Hydroxy Acids
  • Adapalene
  • Tea Tree Oil 

এই পণ্যসমূহ ব্যবহারের পূর্বে, সবসময় সকালের সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। যা আপনার স্ক্রিনকে এক্সট্রা সেনসিটিভ করে তুলবে। 

বিভিন্ন ধরণের পিপ্পল এর ক্ষেত্রে আপনি acne patches or stickers ব্যবহার করতে পারেন। এই পণ্যটি ব্যবহার করার ফলে, আপনার স্কিন একদম পরিষ্কার হয়ে উঠতে পারে। ৩৫টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারিতা লেখাটি পড়তে পারেন।

সবকিউয়াস ফিলামেন্ট (Succubus Filaments) 

succubus filaments
সবকিউয়াস ফিলামেন্ট রোগের লক্ষন

সবকিউয়াস ফিলামেন্ট মূলত একটি পাতলা সিলিন্ডার টিউব, এক ধরনের হলুদাভ হয়ে থাকে। অনেকে এই সমস্যাকে ব্ল্যাকহেউডের সাথে গুলিয়ে ফেলে। কিন্তু ব্ল্যাক-হেড একনের মতোই অনেকটা।

এটি আপনার পোর্সকে বড় করে তুলে। অনেক সময় পোর্টস কে আপনি আঙ্গুল দিয়ে খুঁচিয়ে বের করতে গিয়ে দাগ ফেলে দেন, মুখের মধ্যে। কিন্তু এই পদ্ধতিটি আপনার স্কিনের সাইড এফেক্ট করে থাকে। যদি আপনি সঠিকভাবে তা রিমুভ করতে না পারেন।

পিলিন (Peeling

Peeling
পিলিন রোগের লক্ষন

রেটিনল এখন আপনার স্কিনের পোরস ক্লিন করে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। 

এছাড়া আপনি ত্বকের যত্ন টিপস হিসাবে নিচের পদ্ধতি সমূহ অনুসরণ করতে পারেন:

  • আপনার স্কিনকে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • হালকা নিয়ে আপনার পুরো মুখে ভালো করে এপ্লাই করে নিতে হবে। 
  • তারপর টোনার এবং মশ্চোরাইজার দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। 
  • অবশ্যই সেনিটাইজার করে সকল পণ্য ব্যবহার করতে হবে। 
  • benzoyl peroxide  ব্যবহারের পর আপনি কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন। 

ব্লেমিস, স্কার্স, হাইপারপিগমেন্টেন

মূলত একই সমস্যা সমূহ ত্বকে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে ত্বকে অবস্থান করে থাকে। মূলত এই সমস্যা সমাধানের জন্য, মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার না করা উচিত। এছাড়াও, অন্যান্য উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

  • সিলিকন: আপনার ত্বক এর উন্নতি করার ক্ষেত্রে ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সিলিকন বেশ কাজে দিয়ে থাকে। সিলিকন আপনার ত্বকে ৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করতে পারেন। তাই সিলিকন ডাইক্সাইড যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। 
  • মধু: মধু যেকোনো ধরণের ক্ষত দূর করতে ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি যদি ঘরোয়া উপায়ের এই সমস্যাটি সমাধান করতে চান, তাহলে আপনি মধু ব্যবহার করতে পারেন। 
  • ভিটামিন সি: পানি যখনি কোন ধরনের ক্রিম কিংবা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন, খেয়াল রাখবেন যে, তার মধ্যে ভিটামিন সি বিদ্যমান আছে কিনা। ভিটামিন সি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে। স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার ক্রিম লেখাটিতে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
  • নিয়ানিমাইড: আপনার ত্বকের  সমস্যা প্রতিরোধে এটি খুব কার্যকরী একটি উপাদান। এর দুই ফোটা আপনার স্কিনের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে। 

গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ত্বকের এখন সমস্যা প্রায় ৯৬.২ ভাগ দূর করে থাকে এই রেটিনোটিক এসিডের ব্যবহারের ফলে। এই উপাদান করাতে ব্যবহার করে বেশ উপকারিতা পাওয়া যায়।

কিভাবে ঘরে বসে আপনার স্কিন পরীক্ষা করতে পারেন?

আপনি চাইলে ঘরে বসে আপনার স্কিনের ধরণ অনুযায়ী পরীক্ষা করে নিতে পারেনা। মূলত সাবান প্রোডাকশন এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে পরীক্ষা করতে পারেন। সাবান মূলত ট্যাক্সি। লিকুয়িড। সামান্য সাবান আপনার ত্বকের যেমন:

  • ড্রাই।
  • অয়েলি 
  • নরমাল 
  • কম্বিনেশন 

সাবান প্রোডাকশন আপনার মুখে, ব্যবহার করতে হলে আপনার মুখকে পরিষ্কার করে নিতে হবে। 

  • প্রথমে স্কিন ধুয়ে ৩০ মিনিট ধরে স্কিন শুকিয়ে নিতে হইবে। 
  • বোতল থেকে সম পরিমাণে উপাদান নিয়ে মুকুলের চারপাশে আলতো করে দিয়ে দিতে হবে।
  • তারপর ট্রান্সপারেট পেপার দিয়ে তা যাচাই করে নিতে হবে।
  • আপনার পেপারের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে, আপনি সহজে আপনার স্কিনের ধরনের নির্বাচন করতে পারেন।

আপনি যদি কোন ধরণের উপাদান ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই কোন ধরণের ডার্মাটোলজিস্ট এর কাছে শরণাপন্ন হবে। ডার্মাটোলজিস্ট কাছে পরামর্শ ছাড়া কোন ধরণের পণ্য আপনার ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়।তাহলে নানা ধরণের সমস্যা দিয়ে থাকে।

আপনি হয়তো ধারণা করছেন যে,আপনার স্কিন হতে পারে আদ্র, অয়েলি কিংবা সেনসিটিভ। কিন্তু সত্যিই কি আপনি আপনার ত্বকের ধরণ সম্পর্কে জানেন? আপনার ত্বকের ধরণ সম্পর্কে যখন আপনি জানবেন, তখন সেই অনুযায়ী আপনি আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কসমে-টিক নির্বাচন করতে পারবেন।

কিন্তু স্কিনের জন্য ভুল প্রোডাক্ট নির্বাচন কিংবা ইন্টারনেট দেখে স্কিন হ্যাক ট্রাই করার ফলে আপনার স্কিনের বিভিন্ন সমস্যা যেমন একনে, ড্রাইনেস সহ আরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পরিশেষে

এই ছিল আজকে ত্বকের যত্ন টিপস নিয়ে সংক্ষিপ্ত লেখা আশা করি লেখাটি আপনাদের উপকারে আসবে। আর সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

About admin